চট্টগ্রাম, , রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯

ঢাকার ২৪৮টি হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে

প্রকাশ: ২০১৯-০২-১৭ ১৪:১৩:০৮ || আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ১৪:১৪:০৭

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর অগ্নিনির্বাপনে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিজস্ব কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠাচ্ছেন তারা। যদিও অগ্নিকান্ডের ঝুঁকিতে ২০১৭ সাল থেকেই ফায়ার সার্ভিসের তালিকায় রয়েছে ঢাকার ২৪৮টি হাসাপাতাল। যে তালিকায় নাম ছিল সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেরও।

রাজধানীর মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, যেসব অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে, তাদের বেশিভাগের উপরই ধুলার আস্তরন। দীর্ঘসময় ধরে এই যন্ত্রটি এমনিই পরে আছে। হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোয়াররাফ হোসেন বললেন, ‘অগ্নীনির্বাপক যন্ত্রের অভাব তো নেই, তবে তা ব্যবহারের জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোয়াররাফ হোসেন বলেন,’যন্ত্রপাতি থাকা স্বত্তেও তার ব্যবহার জানবে না, এটা উচিত না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে একবারে পিয়ন পর্যন্ত সবাই যেন এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহার জানে, যাতে করে এ ধরণের পরিস্থিতিতে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে পারি।’

খুব কম সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র চোখে পড়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল ঘুরে। বৈদ্যুতিক তারগুলিও ঝুঁকিমুক্ত নয়। পরিচালক জানান, ‘বেশ কয়েকবারই এই হাসপাতালে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনাতেই নির্বাপন করা সম্ভব হয়।’

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আফজালুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছি, আমাদের হাসপাতালের সবগুলো লাইন ঠিক আছে কিনা- সেটি খতিয়ে দেখতে। এছাড়া, ‘আমাদের হাসপাতালে এসব দুর্ঘটনা রোধে কতটা যন্ত্রপাতি বা জনবলের প্রয়োজন।’

২০১৭ সালে ঢাকার ৪৩৩ টি হাসপাতালের উপর জরিপের পর, একটি প্রতিবেদনে ২৪৮টি হাসপাতালকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৭৪টিকে অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ফায়ার সার্ভিস। সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছিল তখন।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহাম্মেদ খান বলেন, ‘বেশিরভাগ হাসপাতালেরই বৈদ্যুতিক যেসব লাইন আছে তা অনেক পুরনো হয়ে গেছে। তাছাড়া ফায়ার এক্সিট পথগুলাও নিরাপদ না। আমরা হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষে এসব ব্যাপার জানিয়েছি।’

সরকারি-বেসরকারি কোনও হাসপাতালই ফায়ার সার্ভিসের সতর্কবার্তা আমলে নেয়নি। বাস্তবায়ন করেনি তাদের সুপারিশও।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

February 2019
S M T W T F S
« Jan   Mar »
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
%d bloggers like this: