চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮

ছাত্রলীগ নেতা সুদীপ্ত খুন: এক বছরেও হত্যার রহস্য অজানা

প্রকাশ: ২০১৮-১০-০৬ ১২:৫১:০৭ || আপডেট: ২০১৮-১০-০৬ ১২:৫১:০৭

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যার এক বছর পার হলেও এখনও অজানায় রয়ে গেল হত্যার মূল রহস্য। কেন খুন হল, কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন তার কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

গত বছরের ৬ অক্টোবর সকালে নগরের দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় নগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাসকে। এ ঘটনায় সুদীপ্তর বাবা সদরঘাট থানায় অজ্ঞাত সাত-আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। সুদীপ্ত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুর অনুসারী ও চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষার্থী।

এদিকে সুদীপ্ত হত্যার অন্যতম ‘পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে আলোচিত আইনুল কাদের নিপু গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। এর আগে সুদীপ্ত হত্যায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মোক্তার ও পাপ্পু নামের দুইজন।
গ্রেপ্তার মোক্তার জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, হত্যাকান্ডের আগের দিন ৫ অক্টোবর রাতে আইনুল কাদের নিপুর নির্দেশে তারা লালখান বাজারে কর্নেল হোটেলের পাশে শাহী গলিতে জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে নিপু তাদেরকে পরেরদিন ভোরে লালখান বাজার এলাকায় দলবল নিয়ে আসতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী তারা ভোরে লালখান বাজার নিপুর নির্দেশনা মত কয়েকটি অটোরিকশা ও তিনটি মোটর সাইকেলে করে দক্ষিণ নালাপাড়ায় সুদীপ্তর বাসায় তারা যান।

সুদীপ্ত হত্যার ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কূলকিনারা এখনো হয়নি। গ্রেফতার হওয়া ১১জনই সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলোচিত দিদারুল আলম মাসুমের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। সিটি কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে  মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী থাকলেও কয়েক বছর ধরে সেই বলয় থেকে বেরিয়ে আলাদা গ্রুপ তৈরি করে দিদারুল আলম মাসুম। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র নির্বাচিত হলে যোগ দেন মেয়রের গ্রুপে। নিজেদের মধ্যেকার বিরোধ নিয়ে ফেইসবুকে লেখালেখির কারণে মাসুমের বিরাগভাজন হয়ে সুদীপ্ত খুন হন বলেও তার ঘনিষ্টজনদের ধারণা। এই মাসুমের অনুসারীরাই সুদীপ্তকে পিটিয়ে মেরেছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে নগর ছাত্রলীগের একাংশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, আমরা মামলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ১১ আসামির মধ্যে দু’জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি যাদের দরকার তাদের মধ্যে নিপুসহ আরও কয়েকজনের জবানবন্দির জন্য আদালতে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তারা রিমান্ডে অনেক কিছু স্বীকার করার পরও আদালতে  গিয়ে পরে আর  জবানবন্দি দেয়নি।

নগর ছাত্রলীগ সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু  বলেন, ১১ জন গ্রেফতার হলেও এখনো নির্দেশদাতা ও মূল পরিকল্পনার নাম জানতে পারিনি। এক বছরে মামলার কোনো কূলকিনারা করতে না পারা পুলিশ প্রশাসনের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। হত্যাকারী যে দলেরই হোক সে হত্যাকারী। সংগঠনের আড়ালে এনে তাকে রক্ষা করা ঠিক না।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

October 2018
S M T W T F S
« Sep    
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
%d bloggers like this: