চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছিনতাইকারীরা ভেবেছিল ‘বড় ভাই’ বাঁচাবে

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১০ ২২:৫৮:০৬ || আপডেট: ২০১৮-০৭-১০ ২২:৫৮:০৬

‘বড় ভাই’ চক্রে পড়ে ছিনতাইয়ে জড়িয়ে পড়েন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি কলেজের দুই ছাত্র। তবে ছিনতাই করা সাড়ে তিন লাখ টাকা আবার তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করে নেন নগরীর টেরিবাজার এলাকার লিটন নামের এক সন্ত্রাসী।

যদিও সেই ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই ছাত্রকে কারাগারে যেতে হয়েছে। তবে কারাগারে যাবার আগে তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ছিনতাইয়ে জড়িত সবার নাম এবং এর পরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে গেছেন।

দুই ছাত্র হলেন-মো.সাইদুর রহমান নিয়াজ (১৮) এবং মো.জালাল উদ্দিন সাইমুন ওরফে অন্তর (১৮)। এরা দুজনেই চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ নামে একটি কলেজের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (১০ জুলাই) দুই ছাত্র চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন মাস আগে দায়ের হওয়া ওই ছিনতাইয়ের মামলায় সোমবার (৯ জুলাই) রাতে তাদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন বলেন, গত এপ্রিলে এই দুই ছাত্রসহ কয়েকজন মিলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাই করেন। পরে সেই টাকা আবার লিটন নামে টেরিবাজারের এক সন্ত্রাসী তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।

এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তদন্ত করতে গিয়ে এই দুই ছাত্রের তথ্য পান বলে জানান ওসি। তিনি জানান, তাদের গ্রেফতারের পর তারা ঘটনায় জড়িত সবার নাম উল্লেখ করে জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১০ এপ্রিল নগরীর কোতয়ালী থানায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন নগরীর চাক্তাই এলাকার ব্যবসায়ী ফেরদৌস ওয়াহিদ। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি শপিং ব্যাগে টাকা নিয়ে রিকশায় চড়ে তিনি নিউমার্কেট যাচ্ছিলেন। জেল রোডের মুখে ছোরার ভয় দেখিয়ে তাকে মারধর করে টাকাগুলো ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অন্তর জানান, তিনি ও নিয়াজ প্রতিদিন একসঙ্গে কলেজে যান। ১০ এপ্রিল সকালে নিয়াজ ফোন করে অন্তরকে তাদের বাসায় যেতে বলে। অন্তর বাসায় যাবার পর নিয়াজ তাকে নিয়ে রিকশায় করে নগরীর সিরাজউদ্দৌলা রোডে জিসান নামে একজনের বাসায় যান। অন্তরের দাবি, নিয়াজের বন্ধু জিসানকে তিনি সেদিনিই প্রথম দেখেছেন।

জিসান তাদের নিয়ে বাসে চড়ে জেল রোডে যান। সেখানে আগে থেকে জিসানের বন্ধু দেলোয়ার, শওকত, হৃদয় ও রাশেদ ছিলেন। সেখানে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকাভর্তি ব্যাগটি কেড়ে নিয়ে নিয়াজ নিজের হেফাজতে নেয়।

জবানবন্দিতে নিয়াজ জানান, টাকার ব্যাগ নিয়ে তিনি টেরিবাজারে একটি মার্কেটে ঢুকে পড়েন। সেখান থেকে রঘুনাথ মন্দিরের ভেতর দিয়ে রাস্তায় যাবার চেষ্টা করেন। মন্দিরের ভেতরে লিটন নামে এক লোক তার কাছ থেকে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে আটকে রাখে। পরে নিয়াজ টেলিফোনে বিষয়টি জিসান, অন্তরকে জানালে তারা তাদের ‘পলিটিক্যাল বড় ভাই’ কামরুল জামাল ফয়সালকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন ফয়সাল ওই মন্দিরে লিটনের কাছে গিয়ে নিয়াজকে ছাড়িয়ে আনেন। তবে টাকাগুলো লিটনের কাছ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি।

কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন  বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, লিটনও একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। আমরা তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। ফয়সালের সম্পৃক্ততা কতটুকু সেটাও আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে মূল বিষয় হচ্ছে-এই ছেলেগুলোও বড় ভাই কালচারের শিকার। উঠতি বয়সের এসব তরুণ ভেবেছিল, ছিনতাই করলেও বড় ভাই তাদের বাঁচাবে।’

সূত্র : সারাবাংলা

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

July 2018
S M T W T F S
« Jun   Aug »
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
%d bloggers like this: