চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

‘কারখানার বর্জ্য নয়, বন্যায় মরেছে মাছ’

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৮ ২২:৩৬:০৮ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৮ ২২:৩৬:০৮

কারখানার বর্জ্য নয়, বন্যায় ডুবে যাওয়া পুকুর থেকে বের হয়ে আসা পঁচা পানির কারণে চট্টগ্রামের হালদা নদীর আশপাশের এলাকায় মাছ মারা গেছে বলে মত দিয়েছেন একদল গবেষক। তবে এর মধ্যে সব মাছই হালদা নদীর মা-মাছ নয় বলেও দাবি তাদের।

রোববার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। হালদা গবেষকদের সংগঠন একোয়াটিক রিসার্চ গ্রুপের পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

গত জুনের মাঝামাঝিতে চট্টগ্রাম জুড়ে প্রবল বর্ষণের পর হালদা নদীর পাড়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল-বিলে ব্যাপক মরা মাছ ভেসে উঠে। কলকারখানার বর্জ্য থেকে পানি দূষিত হয়ে এসব মাছের মৃত্যু হয়েছে দাবি করে আন্দোলনে নেমেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত ২৯ জুন হালদা নদী রক্ষা কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিল-বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেপার মিলসহ চারটি কারখানার জন্য হালদা নদীর পানি দূষণে মাছের মৃত্যু হয়েছে।

কমিটির এই দাবির ভিন্নমত এসেছে একোয়াটিক রিচার্স গ্রুপের সংবাদ সম্মেলনে।

মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, কারখানার কারণে যদি মাছ মরত, তাহলে বন্যার আগেও তো প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে কলকারখানার বর্জ্য হালদা নদীতে প্রবেশ করত। তখন মাছ মরল না কেন ? বন্যার কারণে ১০-১২ দিন ধরে হালদার দুই পাড়ের প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকার পুকুর-জলাশয় পানির নিচে ছিল।

তিনি বলেন-এতে মানববর্জ্য, পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য মাছ চাষের পুকুরে গিয়ে পড়ে। সব ধরনের জৈব-অজৈব বস্তু পানির তলায় পচে জৈবিক অক্সিজেনের চাহিদা তৈরি করে। ডুবন্ত পুকুর থেকে বের হয়ে আসা পচা পানিতে তেলাপিয়া, আইর, পাঙ্গাস, রুই-কাতলা, চিংড়ি-কাঁকরা ব্যাপকভাবে মারা যায়।

মোহাম্মদ আলী আজাদী এ-ও বলেন, যেসব মাছ মারা গেছে সবগুলো হালদার নয়। কারণ বর্ষণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ঢলের কারণে হালদা থেকে মা-মাছগুলোর অধিকাংশই ভেসে ভাটিতে অর্থাৎ কর্ণফুলী নদীতে গিয়ে পড়েছে। যেসব মাছ স্রোতের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না, সেগুলোর মধ্যে রুই-কাতলা জাতীয় কিছু মাছ মারা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ৬ জন হালদা নিয়ে গবেষণাকারী শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

July 2018
S M T W T F S
« Jun   Aug »
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
%d bloggers like this: