চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

ম্যাক্স হাসপাতালে রাইফার মৃত্যু তদন্ত প্রতিবেদনে যা আছে

প্রকাশ: ২০১৮-০৭-০৬ ১৪:৫৯:৩৫ || আপডেট: ২০১৮-০৭-০৬ ১৫:৩৮:০০

নগরের মেহেদিবাগের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে আড়াই বছরের শিশু রাইফা খানের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

যাতে বলা হয়েছে, ‘শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফা যখন তীব্র খিঁচুনিতে আক্রান্ত হয়, তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের অনভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতার অভাব পরিলক্ষিত হয় এবং ঐ সময় থাকা সংশ্লিষ্ট নার্সদের আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও এ রকম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মতো দক্ষতা বা জ্ঞান কোনোটাই ছিল না।

শিশু কন্যা রাফিদা খান রাইফাকে অসুস্থতার জন্য ম্যাক্স হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটা ক্ষেত্রে তার অভিভাবকের ভোগান্তি চরমে ছিল।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বিধান রায় চৌধুরী শিশুটিকে যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা করে দেখেননি। ডা. দেবাশীষ সেন গুপ্ত ও ডা. শুভ্র দেব শিশুটির রোগ জটিলতার বিপদকালীন আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করেননি বলে শিশুর পিতা-মাতা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা এই তিন চিকিৎসকের বেলায় সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

তদন্তে স্পষ্ট হয় যে, হাসপাতালে রোগী ভর্তি প্রক্রিয়ায় ভোগান্তি প্রকট। চিকিৎসক নার্সদের সেবা প্রদানের সমন্বয়হীনতা ও চিকিৎসাকালীন মনিটরিংয়ের অভাব দেখা যায়। অদক্ষ নার্স ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্বল রয়েছে, বিশেষত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা সেবায় বিশেষজ্ঞের সার্বক্ষণিক উপস্থিতির সংকটটি প্রবল।’

তদন্ত কমিটিতে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ।

চারটি সুপারিশ

‘চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ম্যাক্স হাসপাতালের সার্বিক ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অতিদ্রুত সংশোধন করা অপরিহার্য।

কর্তব্যরত নার্সগণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিপ্লোমাধারী থাকার নিয়ম থাকলেও উক্ত হাসপাতালে তা নেই। ডিপ্লোমা নার্স দ্বারা চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক দ্রুত ও আন্তরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে হবে এবং রোগীর অভিভাবককে যথাসময়ে রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসর ব্যাপারে সর্বশেষ পরিস্থিতি অবগত করতে হবে।’

সিভিল সার্জন বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামলের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। পরে শুক্রবার (০৬ জুলাই) বেলা ১১টায় নগরের প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস।সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামলের সঞ্চালনায় এ সময় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, সিইউজের সাবেক সভাপতি এজাজ ইউসুফী, মোস্তাক আহমদ, রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মনজুর কাদের মনজু, সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, সিনিয়র সাংবাদিক অরুণ দাশ গুপ্ত, নজরুল ইসলাম, ম. শামসুল ইসলাম, মহসিন কাজী, উজ্জ্বল ধর, উত্তম সেনগুপ্ত, মাসুদুল হক প্রমুখ।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

July 2018
S M T W T F S
« Jun   Aug »
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
%d bloggers like this: