চট্টগ্রাম, , শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

লাখো মানুষের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৮ ২০:৫৮:৪৭ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১৮ ২১:০১:২৩

পড়ন্ত বিকেলে ঝাউবীথির মৃদু বাতাসে লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত সমুদ্রসৈকত। টেউয়ের তালে নোনা জলে নৃত্যে মেতেছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা। কেউ গাইছে গলা ছেড়ে গান, কেউবা দলবেঁধে টেউয়ের তালে লাফাচ্ছে উষ্ণ পানিতে।

ঈদের তৃতীয় দিনে শুধু সাগরপাড় নয় কক্সবাজার জেলার সকল পর্যটন স্পট লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসন কিংবা বেসরকারি কোনো আয়োজন না থাকলেও উৎসবের নগীরতে পরিণত হয়েছে পর্যটন জেলা কক্সবাজার।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারো কক্সবাজার জেলায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। তাদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সার্বিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহরের চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ ও ফ্ল্যাটে রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ পর্যটক। এর সাথে যোগ হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রায় ৫০ হাজার পর্যটক। সব মিলিয়ে উৎসবের নগরী কক্সবাজার। ইনানী সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, কলাতলী, সুগন্ধা, লাবনী বিচ পয়েন্টে পা ফেলার জায়গা নেই। কক্সবাজারের বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, রামুর রামকোট বিহার, ১০০ ফুট শয্যা বৌদ্ধমূর্তি, নাইক্ষ্যংছড়ির লেক, চকরিয়ার সাফারি পার্কসহ সব পযটন স্পট পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান কোম্পানি নাগু বলেন, আশানুরূপ পর্যটক এসেছে। আমাদের সমিতির অর্ন্তভুক্ত সবগুলো হোটেল শতভাগ বুকিং রয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এমনই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে কক্সবাজারে প্রায় তিন লাখ পর্যটক রয়েছে।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটক বরণে সব ধরনের প্রস্ততি নেওয়া ছিল। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছিল। আমাদের ধারণা ছিল কমপক্ষে আড়াই লাখ পর্যটক আসবে।

সৈকত ঝিনুক মার্কেটের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, পর্যটক আসতে শুরু করেছে। বিকিকিনিও ভালো হচ্ছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের পরিচালক কলিম উল্লাহ বলেন, বিগত ৪ মাস ধরে পর্যটন নগরীর তারকা মানের হোটেলগুলো এনজিও কর্মকর্তায় ভরপুর। আর অন্যান্য হোটেলগুলো শতভাগ বুকিং রয়েছে।

এদিকে শুধু হোটেল মোটেল নয় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে পর্যটন স্পট দরিয়া নগর, হিমছড়ি এবং ইনানীকে নতুন করে সাজানো হয়েছে।

পর্যটন ব্যবসায়ী ও দরিয়া নগর পর্যটন গ্রুপের চেয়ারম্যান এম সায়েম ডালিম বাংলানিউজকে বলেন, দরিয়া নগরে শিশুদের জন্য বেশকিছু রাইড ঈদের পর দিন থেকে চালু করা হয়েছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, সমুদ্র সৈকতে শতাধিক পোশাকধারী পুলিশ ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। পাশপাশি হোটেল সি গার্ল রোড, কবিতা চত্বর ও ডায়বেটিকস পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের মোটর বাইক, বাইসাইকেল এবং বিচ বাইক দিয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদের দিন থেকে কলাতলী সড়কের হোটেল মোটেল জোন, সমুদ্র সৈকত, হিমছড়ি, দরিয়া নগর এবং ইনানীতে কয়েকস্তরে ভাগ হয়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে হোটেল মোটেল জোনে পুলিশের টহল ও পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। পাশপাশি স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হবে। যেসব হোটেলে বিদেশিরা অবস্থান করেছে সেসব হোটেলে ঈদের দিন থেকে কাজ করছে পুলিশ।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন মো. কামাল হোসেন বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে জেলা প্রশাসনে একাধিক টিম কাজ করছে। ইভটিজিং, হকার ও ভিক্ষুকদের উৎপাত রোধ, ফটোগ্রাফারদের যন্ত্রণা থেকে পর্যটকদের মুক্তি দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন স্পটে রয়েছে।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

%d bloggers like this: