চট্টগ্রাম, , শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮

নৌকায় ঘরবাড়ি, নদীতে জীবিকা

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৬ ১০:৩৫:০৪ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১৬ ১০:৩৫:০৪

চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত সাড়ে তিন হাজার ভাসমান মানুষ রয়েছে। এদের সবার পেশা মাছ ধরা। স্থানীয়রা তাদের বলে মানতা। নদী থেকে নদীতে বয়ে চলে তাদের জীবন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে এই ভাসমান জীবন যাপন করছেন তারা।

এ মানতাদের জীবনে কখনো কোনো উত্সব নেই। নদীতে মাছ ধরে যে আয় হয়, তা দিয়ে মহাজনের দেনা আর ডাল-ভাত জোগাতেই হিমশিম মানতারা। ঈদে তাদের সন্তানদের জুটবে না নতুন জামা, ভালো খাবার। ঈদের দিনটিও কাটবে মাছ ধরে।

লক্ষ্মীপুর চর রমণী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট এলাকার মানতা পারভিন আক্তার। জন্মের পর থেকে বাপের আর বিয়ের পর স্বামীর নৌকায় মাছ ধরে দিন চলছে তার। দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার। তিনি বলেন, ‘সংসারে অনেক অভাব। নদীতে এহন আর আগের মতো মাছ ধরা হড়ে না। যেদিন মাছ বেশি হাই, হেদিন একটু বালা খাই। ঈদের দিন মাংস দিয়ে দুই বেলা পেট ভইরা ভাত খাইতে হারুমনি। পোলাপানেরে নতুন জামা কাহড়ই লই দিতাম হারি না। নছিবো যা আছে তা-ই অইবো।’

সম্প্রতি সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নৌকায় সংসার সাজিয়ে বসেছে মানতারা। কেউ জাল বুনছে, কেউ মাছ ধরছে, আবার কেউ রান্না করছে। শিশুরা নদীর পাড়ে ডাঙায় খেলছে, কেউ মা-বাবাকে সাহায্য করছে। সব শিশুর শরীরে ছেঁড়া জামা।

শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো ঈদেই তারা নতুন জামা পায়নি। এবার ঈদও সেভাবেই কাটবে। বিভিন্ন এলাকায় শহর থেকে মানুষ এসে নতুন জামা বিতরণ করে। কিন্তু এই মানতাদের কাছে কেউ আসে না।

নদীর পাড়ে খেলায় ব্যস্ত শিশু আছমা, ইতি, বেলি ও শাহানাজ আক্তার জানায়, ঈদ বলে বিশেষ কোনো দিন তাদের কাছে নেই। এমনকি ঈদের দিনও নৌকার ছোট্ট ঘরটি থেকে ভালো রান্নার সুবাস আসে না।

লক্ষ্মীপুর চর রমণী মোহন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল জানান, মজুচৌধুরীর হাট এলাকার মেঘনা নদীতে ১৬০টি নৌকা রয়েছে। এর মধ্যে বসবাস করে তিন শতাধিক পরিবার। কয়েক দিন আগে সরকারি বরাদ্দের কিছু চাল কয়েকজন জেলেকে দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ কম থাকায় সবাইকে দেয়া যায়নি। তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানরাও যদি এগিয়ে আসে, তাহলে এ ভাসমান পরিবারগুলো কিছুটা হলেও ঈদের আনন্দের ভাগ পেত!

এদিকে জেলেদের জন্য ভিজিএফ বা পুনর্বাসন সহায়তা থাকলেও এই ভাসমান জেলেদের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ থাকে না বলে জানান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহজাহান আলী। এবার মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময় জেলেদের চাল দেয়া হয়েছে নিশ্চিত করে জেলা মত্স্য কর্মকর্তা এসএম মহিব উল্যা বলেন, ভাসমান জেলেদের জন্য কোনো বরাদ্দ আসে না।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

%d bloggers like this: