চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮

অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ঘাটে ভিড়ছে লঞ্চ

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-১৩ ২২:৩০:৫১ || আপডেট: ২০১৮-০৬-১৩ ২২:৩০:৫১

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহর থেকে বাড়ি পথে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। কর্মব্যস্ত নগরী, ক্লান্তিকর জীবন থেকে অবকাশ নিয়ে কিছু দিনের জন্য প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে নিজ নিজ বাড়িতে ছুটে চলেছেন নগরবাসীরা।

আর ঢাকা থেকে চাঁদপুরে নৌ-চলাচল আরামদায়ক হওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষই আসেন লঞ্চে করে। কিন্তু ৭০০ থেকে ৮০০ যাত্রী বহনকারী লঞ্চগুলো এখন ঢাকা থেকে দুই থেকে তিন হাজার যাত্রী নিয়ে আসছে। এতে যাত্রীদের যেমন দুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে।

বুধবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ ঢাকা সদরঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ঘাটে ভিড়েছে। এসব লঞ্চের মধ্যে দুই হাজারের কম যাত্রী ছিলো খুব কম লঞ্চেই।

এমভি ইমাম হাসান-৫ সকাল ৬টায় ঢাকা সদরঘাট থেকে ছেড়ে সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর ঘাটে আসে। এই লঞ্চে যাত্রীছিলো প্রায় তিন হাজারের মতো। এরপর সকাল ১০টা থেকে প্রতি আধঘণ্টা আবার কোনো সময় একঘণ্টা পর এক বা একাধিক লঞ্চ ঢাকা থেকে চাঁদপুর ঘাটে আসতে শুরু করে। এমভি আল-ওয়ালিদ-২, এমভি গ্রিন লাইন-৭, বোগদাদিয়া-৭ সহ সব লঞ্চেই একই ধরনের যাত্রী দেখা যায়।

সরেজমিন ঘাটে আসা লঞ্চগুলোতে এমনভাবে যাত্রী উঠানো দেখা যায়। অনেক লঞ্চে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকাও ছিলো খুবই কষ্টকর। লঞ্চগুলোর ছাদে করেও যাত্রী এসেছে। এ ক্ষেত্রে ছোট শিশু ও নারীদের বেশি কষ্ট পোহাতে দেখা গেছে।
লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী
এমভি বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চের যাত্রী মো. ইমরান হোসেন বলেন, সদরঘাটে লঞ্চগুলো এসে ভিড়লেই মুহূর্তের মধ্যে যাত্রী ভরপুর হয়ে যাচ্ছে। সিডিউল টাইম হওয়ার আগেই ঘাট ছাড়ছে লঞ্চগুলো।

মোটরসাইকেল সঙ্গে থাকায় যাত্রীদের নামতে দেরি হওয়ার কারণে প্রায় আধাঘণ্টা লঞ্চের সামনেই বসে থাকতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিষয়টি স্বীকার করে লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি রুহুল আমিন বলেন, চাঁদপুর-ঢাকা নৌরুটে প্রায় ২৪টি লঞ্চ যাতায়াত করে। এছাড়া অন্য লাইনের লঞ্চগুলোও ভায়া হয়ে চাঁদপুর ঘাটে আসে। সকাল থেকেই যতো লঞ্চ সদরঘাট থেকে চাঁদপুরে আসছে, সবগুলো অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে আসছে। চাঁদপুর থেকে যেসব লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে সেগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী নেই।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুর ঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করলে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। তবে যাত্রীদের সহজেই পন্টুন থেকে ওপরে উঠার জন্য কয়েকদিন আগেই আমরা একটি নতুন জেটি চালু করেছি। এতে করে পারাপার খুবই সহজ হচ্ছে।

চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাসহ চলাচলের জন্য সব ব্যবস্থা রয়েছে চাঁদপুর ঘাটে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যেসব লঞ্চ এ ঘাটে আসছে এ বিষয়ে আমাদের করার কিছুই নাই। কারণ এ বিষয়গুলো দেখবেন সদরঘাটে কর্মরত কর্মকর্তারা। তারপরেও আমরা বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি।

সূত্র: বাংলানিউজ।

 

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

June 2018
S M T W T F S
« May    
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
%d bloggers like this: