চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২২ আগস্ট ২০১৮

আর্জেন্টিনা দু’শো, ব্রাজিল একশ’ আশি

প্রকাশ: ২০১৮-০৬-০৮ ২২:২০:৫০ || আপডেট: ২০১৮-০৬-০৮ ২২:২০:৫০

“আর্জেন্টিনা দুশো… আর্জেন্টিনা দু’শো… ব্রাজিল একশ’ আশি …” চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও আবাসিকের ১৪ নম্বর সড়কে এভাবে একটানা ডেকে যাচ্ছেন মৌসুমি পতাকা বিক্রেতা নাজমুল। শুধু চান্দগাঁও নয়, চট্টগ্রামের অলিগলি, রাজপথ এখন এ ধরনের মৌসুমি পতাকা বিক্রেতার হাঁকডাকে বেশ সরগরম। তাদের হাঁকে নেচে উঠছে আশেপাশের উপস্থিত ফুটবল প্রেমীদের মনও। কিনছেন পছন্দের দলের পতাকা-জার্সি-হাতের ব্যান্ডসহ বাহারি সব পণ্য।

পতাকা বিক্রেতা নাজমুল ইসলাম জানালেন, তিনি মূলত রিকশাচালক। গত চার-পাঁচ বছর ধরে বহদ্দারহাট এলাকায় রিকশা চালান। তবে বছরের কিছু বিশেষ দিনে তিনি পতাকা বিক্রি করেন।

নাজমুল বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ, ২১ ফেব্রুয়ারি, পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশের পতাকা বিক্রি করি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি করছি। তবে অধিকাংশ মানুষ শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা খোঁজে। আর্জেন্টিনার পতাকা দুইশ’ টাকা আর ব্রাজিলেরটা একশ’ ষাট থেকে একশ’ আশি টাকা।’

আর্জেন্টিনার পতাকার দাম বেশি কেন? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল জানালেন, এই পতাকাটার চাহিদা বেশি। নাজমুল বলেন, ‘শুরুতে একশ’ বিশ থেকে একশ’ পঞ্চাশে বিক্রি করলেও বিশ্বকাপ যতই আগায় আসতেছে, পতাকার চাহিদা ততই বাড়ছে। তাই এখন একটু দাম বেশি চাই। পাইকারিতেও দশ টাকা দাম বাড়ছে।’

নাজমুল জানান, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ছাড়াও জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ডের পতাকা বিক্রি হচ্ছে। উঠতি বয়সের কিশোর-যুবকরাই এসব পতাকা বেশি কেনে। নাজমুলের ভাষ্য-যে, যে দেশের পতাকাই কিনুক। শেষে ছোট একটা বাংলাদেশের পতাকা কিনতে তারা ভোলেন না। এই জিনিসটা তার খুব ভালো লাগে।

এদিকে হকারদের সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা বেড়েছে নগরের দর্জি বাড়িতেও। তারা বলছেন, এমনিতেই ঈদের কাপড় তৈরির চাপ। তার উপর এবার ফুটবল বিশ্বকাপের পতাকার চাহিদা। তাই কাজের চাপ যে কোনো সময়ের চাইতে বেশি। পতাকায় কষ্ট কম, লাভ বেশি। তাই কেউ কেউ পতাকাতেই ঝুঁকছেন।

চট্টগ্রাম নগরের লালদিঘির এলাকার দর্জি মনসুর জানান, এবার তিনি শুধু পতাকাই তৈরি করছেন। পতাকা তৈরিতে সময় কম লাগলেও মুনাফা বেশি। প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুইশ’ পতাকা তৈরি করেন তিনি। দিন শেষে হাজার দেড়েক টাকা মুনাফা হয়। মৌসুমি পতাকা বিক্রেতারাই এসব পতাকার গ্রাহক।
নগরের জহুর হকার্সের ফুটপাতের বিক্রেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিক্রি করছেন জার্সি। কেবলই ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ দুই দলের সমর্থন বেশি। প্রতিদিন ৪০-৫০ পিস করে বিক্রি হয়।’

মনসুর দর্জির কাছে পতাকা কিনতে আসা বিক্রেতা আলফাজ বলেন, ‘গত বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় পতাকা পাইনি। এবার এক মাস আগে অর্ডার দিয়ে রেখেছিলাম। এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার পতাকা কিনেছি। গত এক সপ্তাহে বিক্রি করেছি প্রায় ১০ হাজার টাকার। দশ পিস পতাকা বিক্রি করলে দুইশ’ থেকে তিনশ’ টাকা লাভ থাকে।’ আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ও পাশের এ্যাপোলো শপিং সেন্টারের দোকানগুলোতে বিশ্বকাপ উপলক্ষে রমরমা সাজ। বিভিন্ন দলের জার্সি, পতাকা, ফুটবল, চাবির রিং সাজানো থরে থরে। এসবের বেশিরভাগই আনা হয়েছে চীন ও থাইল্যান্ড থেকে। চীন থেকে আনা জার্সি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা; থাইল্যান্ড থেকে আনাগুলো ৬৫০ টাকায়। বিশ্বকাপের বল বিক্রি হচ্ছে ৯শ’ থেকে এক হাজার টাকায়। চাবির রিং বিক্রি হচ্ছে দুইশ’ টাকায়।

জনতা স্পোর্টসের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম  বলেন, ‘আমরা সারা বছরই পতাকার ব্যবসা করি। তখন বাংলাদেশের পতাকা বেশি চলে। এখন চলছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানির। প্রতিদিন প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকার পতাকা বিক্রি করছি। আর্জেন্টিনার পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে এবার। দ্বিতীয়তে ব্রাজিল, তৃতীয়তে আছে জার্মানি। ফ্রান্স-স্পেন চলছে, পর্তুগালও চায় অনেকে।’

এছাড়া নগরের পেপার স্ট্যান্ডগুলোতে দেখা মেলে বিশ্বকাপের দলগুলোর পোস্টারও। আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ১২০ টাকায়৷

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

%d bloggers like this: