চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে’

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২৯ ১৩:২২:০১ || আপডেট: ২০১৮-০৫-২৯ ১৩:২৪:৩১

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ নানা কাজে কিংবা ঘুরতে আসেন বাংলাদেশে। কিন্তু এদের মধ্যে কজন আছেন এই দেশকে বা দেশের মানুষকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেন।

তবে কেউ কেউ আছেন ব্যতিক্রম। যারা হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন বাংলাদেশকে। এমনই একজন নারী ডেনমার্কের কোপেনহেগেনের মিনা ফ্লাইভম টড।

মিনা ড্যানিশ রেড ক্রস সংস্থার একজন অ্যাক্টিভিটি লিডার হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন তার অফিসিয়াল কাজে। আর ২৫ মে বাংলাদেশ ত্যাগ করার সময় বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু সুন্দর কথা লিখেছেন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে। তার সেই স্ট্যাটাস এখন ভাইরাল। চলছে যুক্তিতর্ক।

মিনা লিখেছেন, ‘আমার বাংলাদেশে থাকার সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমার বাংলাদেশি বন্ধুদের,পরিবার, ছাত্র, সহকর্মী এবং সকল চাচা চাচি এবং ভাই যাদের সঙ্গে আমি পরিচিত হয়েছি সবাইকে ধন্যবাদ। এখন আমি বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি, তবে আমার মনে হচ্ছে আমি এখানে মাত্র কয়েক সেকেন্ড ছিলাম। তবুও, যখনই আমি এই অগণিত স্মৃতি এবং অভিজ্ঞতা চিন্তা করি, তখন মনে হয় আমি এখানে কয়েক দশক ধরে আছি। এজন্য আপানদের ধন্যবাদ জানাই।

পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বাঙালি সাজে মিনা। 

বাংলাদেশ এমনই একটি ক্রেজিয়েস্ট দেশ যা আমি আগে কখনোই দেখিনি। এখানে চরম দারিদ্র্য এবং সম্পদ পাশাপাশি বিদ্যমান এবং সততা ও দুর্নীতি এবং একই সঙ্গে দূষণ আবার তাজা বাতাস। তবে এসব আমাকে বেশি দূর নেওয়ার আগেই আমি বাংলাদেশকে ‘রংধনু দেশ’ বলে ডাকতে শুরু করি। কারণ এখানে সব ধরনের মানুষ আছে যাদের দিয়ে সব রঙগুলো পরিপূর্ণ।

প্রতিদিনই আমি এখানে এমন সব মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি যাদের মধ্যে অনেকের অনেক সুযোগ রয়েছে আবার কারো কোনো সুযোগ নেই। আবার কিছু মানুষের কাছে ঐতিহ্য এবং সমাজের নিয়ম কানুন অনেক মূল্যবান, পাশাপাশি কারো কাছে এর কোনো মূল্যই নেই।

আরও কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি যাদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবর্তনের জন্য লড়ে যাচ্ছে আবার কেউ ভাবছে পরিবর্তনের সময় হারিয়ে গেছে। কেউ আছে অধিক শিক্ষিত আবার এমন অনেকে আছেন যারা জীবনে একবার বই খুলেও দেখেননি।

আমি এমন সব পুরুষদের সঙ্গে চলেছি যাদের কেউ মনে করে নারী পুরুষ সমান। কেউ মনে করে বস্তু, কেউ মনে করে নারী যাকে বিয়ে করে পরিবার হবে এবং একই সঙ্গে সময় কাটাবে। নারীরা শীর্ষ পদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে, নিজেদের নতুন ব্যবসা শুরু করে, বিশ্ব ভ্রমণে বের হয়।

অনেক পার্থক্য সত্ত্বেও, এমন কিছু আছে যা এইসব মানুষ ভাগ করে নেয়, এবং তারা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ এবং অতিথিপরায়ণ, আপনি তাদের দেশটিকে পছন্দ করতে আগ্রহী হবেন। এর ফলাফল অনুমান করুন, – তারা সফল!
এখানে দিনে দশবার চা খাওয়া চমৎকার একটি বিষয় এবং আমি সব গভীরতার সঙ্গে উপভোগ করেছি।

আমি মনে করি এখানকার মজার বিষয় হল- বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা সমুদ্র তীর এখানে হওয়া সত্বেও প্রায় বেশির ভাগ মানুষ সাতার জানে না।’

 

সিলেটে শিশুদের সঙ্গে মিনা। 

যদিও তার এই কথার সঙ্গে একমত পোষণ করেননি তার অনেক বাংলাদেশি বন্ধুরা। তার ফেসবুক বন্ধুরা ওই পোস্টে ধন্যবাদ দিলেও এখানে অনেক মানুষ সাতার জানে না মিনার এই কথার সঙ্গে একমত না অনেকেই।

মিনার কাছে আরও যেসব বিষয় মনে গেঁথেছে তা নিয়ে সে লিখেছে, ‘এখানে খুব ছোট একটি জায়গার মধ্যে নাপিতের দোকান আমার খুব ভালো লেগেছে। বাংলাদেশের ফল ও সবজি আমি মিস করব যেগুলো পৃথিবীতে আছে বলেই আমি জানতাম না এবং অবশ্যই নিজের হাতে খাওয়া। এমনকি দিনের তিন বেলা ভাত খাওয়া। আমার মতে শহরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রিকশা নেওয়া সবচেয়ে ভালো। এখানে আরও একটি মজার বিষয় হল- যখন বাংলাদেশিরা শুনবে তুমি ড্যানিশ তখন এখানকার মানুষ তোমাকে গর্বের সঙ্গে দেখাবে ড্যানিশ কনডেন্সড মিল্ক।
আর আপনার নাম যদি হয় মিনা তাহলেই বুঝতে পারবেনা এরা মিনা কার্টুন সম্পকে কতটা উৎসাহী।’

লেখার শেষে মিনা লিখেছেন, ‘সবশেষে আমি বলতে চাই, আমি এদেশের সমস্যা সম্পর্কে সচেতন। চরম দারিদ্র, অত্যধিক জনসংখ্যা, দুর্নীতি, অপচয়, এবং বৈষম্যর মতো বিষয়গুলো তারা এখনো মোকাবেলা করে যাচ্ছে। কিন্তু আমি দেখেছি যেখানেই তাকাবেন দেখবেন কতটা শক্তিশালী তাদের আত্মা, প্রগতিশীল চিন্তা এবং চমৎকার তাদের উদ্যোগ।
এবং আমি বিশ্বাস করি যে যদি আপনারা এমন অবস্থা ধরে রাখেন, তাহলে পরিবর্তন আসবেই।

এটি খুবই সংক্ষিপ্ত একটি পোস্ট। কিন্তু বাংলাদেশ আমার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। তাই সবাইকে ধন্যবাদ এবং বাংলাদেশের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা।’

 

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

May 2018
S M T W T F S
« Apr   Jun »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
%d bloggers like this: