চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮

শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি ও একটি পরিবারের আর্তনাদ

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-২২ ০৪:০৮:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০৫-২২ ০৪:০৮:৪৫

ইনবক্সে লিখেছেন ফারহানা শারমিন(ছদ্ম নাম)

“শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি ও একটি পরিবারের আর্তনাদ”
পরিবারের কেউ রাজনীতিতে আগ্রহী ছিলোনা।পক্ষ বিপক্ষে বুঝার বা জানার দরকার ও সুযোগ ছিলো না আমাদের ছোট্ট পরিবারে।কিন্তু একদিন রাতে পুলিশ এসে যখন আমার সদ্য ইন্টার পাশ করা ছোট ভাইকে ঘর থেকে খুঁজে এ্যারেষ্ট করলো সেদিন থেকে রাজনীতি সম্পর্কে প্রথম জানার সুযোগ হলো।যে পরিবারের কেউ রাজনীতির র পর্যন্ত জানতাম না তাদের কাছে রাজনীতির সাথে পরিচয় এতো জগন্যভাবে হবে ভাবতে পারিনি।কখনো বুঝতে পারিনি ছোট ভাইটা এভাবে নিজের সুন্দর জীবন নষ্ট করে ফেলবে।মেট্রিক ও ইন্টার পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ ৫ পেয়ে সাইন্স থেকে পাশ করা ছোট ভাইকে বাবা মা বুয়েটে পড়াবে স্বপ্ন দেখেছিলো।কিন্তু পরিবারের সব স্বপ্ন আজ শেষ করে দিয়েছে আদরের ছোট ভাইটি।এ কেমন রাজনীতি যা গোপনে করতে হবে?

সহজ সরল মেধাবী ভাইটি স্কুলে বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতো।বন্ধুরা মিলে গঠন করেছিলো বিজ্ঞান ক্লাব।গনিত উৎসবেও পুরস্কার জিতেছিলো।বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে তারা ১ম স্থান জিতেছিলো।বিভিন্ন স্কুল কলেজের বড় ভাই বন্ধুদের সাথে মিলে বিজ্ঞানের প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতো তারা।এরমধ্যেও কি এমন রাজনীতি ছিলো ভাবতেও পারিনি কেউ।পুলিশ এসে যখন বাসা তল্লাশী করে লাল টেপ মোড়ানো ব্যাগের ভেতর থেকে ককটেল বোম্ব উদ্ধার করলো তখন আমার মা হার্ট এ্যাটাক করলো।বাবার দু চোখ বেয়ে অশ্রু আর আমার বড় বোনের সাথে নিজের কান্না কি যে অসহ্য যন্ত্রনাবোধ রাত কেটেছে বুঝানো যাবেনা।পুলিশগুলো ভাইকে যখন নিয়ে যাচ্ছিলো সে মাথা নিচু করে ছিলো।একদিন পর জানতে পারলাম তার আরো ৩ বন্ধু যারা সবাই একই সাথে পড়াশুনা করতো স্কুল জীবন থেকে তাদের সবাইকেও পুলিশ এ্যারেষ্ট করলো।পত্রিকায় ভাইসহ তার বন্ধুদের যে ছবি ছেপেছিলো তাতে তারা ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত লেখা ছিলো।দুইদিন পর হরতাল ছিলো,এই বোম্বগুলো তাদের রাখতে দিয়েছিলো বুয়েটের হলে থাকা এক বড় ভাই।

বিশ্বাস হচ্ছিলো না তখনো তাদের বিজ্ঞান ক্লাবটি শিবিরের রাজনৈতিক নেতারা নিয়ন্ত্রন করতো সেদিন প্রথম জানলাম।কয়েকদিন পর সেই বড় ভাইও মিছিল থেকে এরেষ্ট হলে খোলাসা হলো সবার কাছে তারা সবার অজান্তে গোপনে শিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েছিলো।

পত্রিকায় ছাপানো এই একটি জগন্য ছবির জন্য এখনো বাবাকে অফিসে তার কলিগদের কাছে কথা শুনতে হয়।৩ মাস জেলে কাটিয়ে তারা যখন মুক্তি পেয়েছিলো তখন ৪টি পরিবারের স্বপ্ন শেষ।কেউ আর বুয়েট,ঢাবি,ঢামেকে ভর্তি হতে পারলো না।যে ভাইকে নিয়ে হাজারো স্বপ্ন ছিলো,সে ভাইটির কারনে পুরো পরিবারকে এলাকাবাসী বাঁকা চোখে দেখে এখন।বড় আপু বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) পরীক্ষায় নিজের মেধায় সবকটি ধাপ শেষ করলেও পুলিশ ইনভেস্টিগেশনে ছোট ভাইটির কারনে বাদ পড়ে যায়।সারাজীবনের কষ্ট বুকে চেপে নিয়ে ঘর সংসার করছে এখন সে।ভাইটিও পড়াশুনা গুটিয়ে রেখে পুরাদমে রাজনীতি করছে।এনজিওতে চাকুরি করে নিজের পকেট খরচ বহন করছে।কখনো ঘরে ফিরে আবার কখনো ফিরেনা।পুলিশের অভিযান তো আছেই।মাঝখানে আরো একবার মিছিল থেকে গ্রেফতার হয়েছিলো।আমার নিজের পড়াশুনা মাষ্টার্স শেষ করে দীর্ঘদিনের রিলেশনশীপ রাখা মানুষটির পরিবার থেকেও আজ প্রত্যাক্ষান হলাম।মুক্তিযুদ্ধা পরিবার হিসাবে তারা জামাত শিবিরের পরিবারের সাথে আত্মীয়তা করবেনা সাফ কথা বলে দিয়েছে।

কথাগুলো কেন বললাম জানি না।রাজনীতি তো খারাপ কিছুনা যদি তা মানুষের জন্য হয়ে থাকে।কিন্তু শিবিরের এ কেমন রাজনীতি যা মেধাবীদের জীবন ধ্বংস করে দেই?পরিবারের কেউ বুঝতেও পারিনি ভাইটি কোন রাজনীতিতে জড়িত।পরিবারের এতো ক্ষতির পরেও এসব মানতে নারাজ ভাইটা।তার কাছে আমরা আজ কেউ না।আমাদের পরিবারটা ধ্বংস হয়ে গেছে তার কারনে।প্রতিদিন অভিশাপ দিলেও নিজেরা হাল্কা হতে পারছি না আমরা।আমার প্রশ্ন একটা, রাজনীতি তো লুকিয়ে করেনা।যদি দেখতাম ভাই রাজনীতি করে তবে তার গতিবিধি নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতাম।এখন কাকে দোষ দেবো?আজ স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো আমাদের।

নুরুল অাজিম রনি’র ফেইসবুক থেকে

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

May 2018
S M T W T F S
« Apr   Jun »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
%d bloggers like this: