চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কার সঙ্গে নেভালে গিয়েছিল স্কুলছাত্রী তাসফিয়া

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-০৩ ০৯:৩২:০৪ || আপডেট: ২০১৮-০৫-০৩ ০৯:৩৬:৩৬

স্কুলছাত্রী তাসফিয়া আমিনের (১৬) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু আদনান মির্জাকে (১৬) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (০২ মে) সন্ধ্যায় নগরের খুলশী থানার জালালবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।আদনান চট্টগ্রামের এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তবে পুলিশ এখনো কিভাবে তাসফিয়ার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি। তার মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধু আদনান জড়িত কিনা সেই বিষয়েও পুলিশ নিশ্চিত নয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আদনান কিছু তথ্য দিলেও সেদিন নগরীর গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে তাসফিয়া কার সঙ্গে নেভারে গেল তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে দুইজন দুইটি সিএনজি টেক্সিতে উঠেছিল।

অন্য একটি সূত্র জানায়, তাসফিয়ার সিএনজি টেক্সির পেছনে দুইটি মোটর সাইকেলে ৪ জন যুবক ছিল। তাদের সঙ্গে আদনান বা এই হত্যাকান্ডের কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা বের করার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাহেদুল ইসলাম জানান, আদনানকে বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর নাসিরাবাদ এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এসি জাহেদুল জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আদনান জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাসফিয়া, আদনান এবং তাদের এক বন্ধু সোহেল নগরীর গোলপাহাড় এলাকায় চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্টে বসেন। কিছুক্ষণ পর তাসফিয়ার আম্মা সোহেলকে ফোন করে তাসফিয়াকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। এসময় আদনানের কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে তাসফিয়া রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠে। এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাসফিয়ার মা আবার আদনানকে ফোন করে তাসফিয়া কোথায় সেটা জানতে চান। তখন তাসফিয়ার বাসায় যান আদনান। রাত ১২টা পর্যন্ত আদনান এবং তাসফিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। এরপর বুধবার সকালে তাসফিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়।

এসি জাহেদ আরও বলেন, ‘কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের জানিয়েছেন, যেখানে তাসফিয়ার মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে তাকে একা বসে থাকতে দেখা গেছে। এরপর কিভাবে মৃত্যু হয়েছে সেটা কেউ জানাতে পারেননি। তাসফিয়ার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে আদনান কিছু বলতে পারেনি। আমরা তদন্ত করে দেখছি।’

পুলিশ সূত্র জানায়, জিঙ্গাসাবাদের জন্য বন্ধু আদনানকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। চায়না গ্রিলের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় দেখা যায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তারা রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে।

রেস্টুরেন্টের কয়েকজন ওয়েটার জানান, তারা দুজনে দুই পিস কেক ও দুটি আইসক্রিম অর্ডার করেন। আইসক্রিম খেলেও কেক না খেয়ে ৬টা ৩৭ মিনিটে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে আলাদাভাবে দুটি সিএনজি ট্যাক্সিতে দু’জন উঠে জিইসির মোড়ের দিকে চলে যায়।

পুলিশের প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে আদনান জানিয়েছে, একমাস আগে তাসফিয়ার সাথে তার পরিচয় হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে দু’জনে প্রথমে সিআরবিতে ঘুরতে যায়। সেখান থেকে স্টেডিয়ামের গ্রিডি গার্ডস রেস্টুরেন্টে যায়। সেখানে খালি না পেয়ে দু’জনে দুই নম্বর গেট আফগান রেস্টুরেন্ট এবং ওক এন্ড রোল রেস্টুরেন্টে যায়। কোথাও খালি না পেয়ে পরে প্রবর্তক মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট যায়।

আদনানের দাবি, চায়না গ্রিলে কিছুক্ষণ বসার পর এক বন্ধু ফোন করে জানায় তাসফিয়াকে বাসায় খুঁজছে। নাস্তা অর্ধেক খাওয়া অবস্থায় বের হয়ে তাসফিয়াকে একটি সিএনজি ট্যাক্সিতে তুলে দিয়ে অন্য একটি ট্যাক্সিতে উঠে জালালাবাদের বাসায় চলে যায় সে। তাসফিয়ার মায়ের ফোন পেয়ে রাত বারোটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে তাসফিয়াকে তারা খোঁজাখুজি করে।

পুলিশের এসি জাহেদুল ইসলাম জানান, চায়না গ্রিল থেকে বের হয়ে তাসফিয়া নেভাল পর্যন্ত কার সাথে গিয়েছে তা জানা গেলে মৃত্যুর রহস্য উন্মোচিত হবে এমনটি আশা করছি।

বুধবার সকালে নগরীর পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমির অদূরে ১৮ নম্বর ঘাট এলাকায় চোখ, নাক-মুখ থ্যাঁতলানো অবস্থায় তাসফিয়ার মরদেহ পায় পুলিশ। প্রথমে পরিচয় নিশ্চিত না হলেও দুপুরে পরিবারের লোকজন থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

তাসফিয়া কক্সবাজার জেলা সদরের ডেইলপাড়া এলাকার মো. আমিনের মেয়ে। চট্টগ্রাম নগরীর ওআর নিজাম রোডে তাদের বাসা। সে সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

May 2018
S M T W T F S
« Apr   Jun »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
%d bloggers like this: