চট্টগ্রাম, , বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পৃথিবীতে আপনার মূল্য ঠিক কতটা?

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-৩০ ০০:২৭:৪৮ || আপডেট: ২০১৮-০৪-৩০ ০০:২৭:৪৮

আমরা অনেকেই হয়তো মনে করি, পৃথিবীতে আমাদের কোনো মূল্য নেই। কি হবে আমি এই পৃথিবীতে না থাকলে? কিন্তু মজার ব্যাপার হলো আমরা আসলে এটাই জানি না যে, আমাদের কতটা ক্ষমতা রয়েছে পৃথিবীকে সুন্দর করার জন্য। আবার আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন, যারা পৃথিবীকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। যাহোক, আজ আমি আপনাকে এমন কিছু প্রশ্ন করব, যার মাধ্যমে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, পৃথিবীতে আপনার মূল্য কত বেশি!

চলুন তাহলে শুরু করা যাক… 

১. যদি আপনি আগামীকাল অদৃশ্য হয়ে যান, তাহলে আপনার পরিবার, আপনজন বা বন্ধুরা আপনাকে কতটা মিস করবে?

এটা এমন একটা উপায়, যার মাধ্যমে আপনার মূল্য কতটা, তা আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আপনাকে অদৃশ্য হতে হবে না। বরং আপনি নিজেকে আরও কিছু প্রশ্ন করুন। যেমন- তারা কি আপনাকে মিস করবেন? তারা কি আপনার জন্য খুব কষ্ট পাবেন? বা আপনি ছাড়া তাদের জীবন কি কম আনন্দময় বা বিষাদময় হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর আপনার নিজের মধ্যেই আছে, একটু খুঁজে নিন। আর উত্তর পেয়ে গেলে একটু ভাবুন যে, আপনি অন্য কারো জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

২. আপনি কি কারো আজকের দিনটা ভালো করতে পারেন?

আপনি তখনি বেশ মূল্যবান হবেন, যখন আপনি অন্যের জন্য কিছু করতে পারবেন। আপনি যদি করো অসহায় মুহূর্তে একটু হাসি এনে দিতে পারেন, তাহলে তার কাছে আপনার মূল্য কতটা? তা আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। এখন আপনি যদি না থাকতেন, তাহলে এই উপকারটাই বা সে কোথায় পেত? তাই আপনার মূল্য ওই মানুষটির কাছে অনেক বেশি, যাকে আপনি একটু হলেও সুখী করলেন। আবার এমনটাও ঘটতে পারে, যাকে আপনি উপকার করলেন, সে আপনাকে পাত্তাই দিলো না। তাই বলে আপনার উপকারতো মিথ্যা বা অযথা হচ্ছে না, বরং আপনি নিজেই নিজেকে বলতে পারবেন- আপনি আজ কারো দিনটা ভালো করেছেন। আর এটাই আপনার জীবনে বেঁচে থাকার বড় স্বার্থকতা।

৩. আপনি অন্যদের থেকে কতটা আলাদা?

আপনি হতে পারেন অসাধারণ একজন। আচ্ছা, হয়তোবা এখন ভাবছেন আমিতো অসাধারণ নই। তাহলে এখনি আপনার সে অসাধারণ গুণগুলোকে আপনার সামনে হাজির করতে হবে। তাহলেই বুঝতে পারবেন আপনি আসলে কতটা অসাধারণ এবং অন্যের থেকে বেশ আলাদা। আপনি হয়তো এমন কিছু করছেন বা করে থাকেন যে কারণে আপনি অসাধারণ। আর এটা আপনি নিজেই বোঝার চেষ্টা করুন। এবার ভাবুন এতটা অসাধারণ মানুষের পৃথিবীতে কতটা গুরুত্ব? আর এই মূল্যবান মানুষটিই হলেন আপনি।

৪. আপনি কি কোনোভাবে নিজের সঙ্গে প্রতারণা করছেন?

আমরা এই পৃথিবীতে এতসব কাজকর্মে ব্যস্ত থাকি যে, নিজেকে সময় দেওয়ার মতো সময় হয়ে ওঠে না। নিজেই নিজেকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকি! যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই নিজেকে নিজের সাথে এই প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীর সেই মানুষটিই মূল্যবান- যে আর যাই হোক, নিজের সঙ্গে প্রতারণা করেন না এবং নিজেকে ভালোবাসেন। তাই নিজের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখবেন এবং নিজেকে ভালোবাসবেন। আর এটাই আপনাকে পৃথিবীর মূল্যবান মানুষ হিসেবে প্রমাণ করবে।

৫. আপনি কি কারো কাছে কিছু আশা না করেই উপকার করেন?

এটা অনেকেই ভাবেন- আমি তার উপকার করবো তখন, যখন সে আমার উপকারে আসবে। এটা একটা ভুল চিন্তা-ভাবনা। তাই কারো কোনো উপকার করতে গেলে রিটার্ন পাওয়ার আশা বাদ দিয়ে করতে হবে। আমরা অনেকেই কাউকে কোনো গিফট দিলে ভাবি, তিনিও আমাকে রিটার্ন গিফট দেবেন। আর যদি তিনি রিটার্ন গিফট না দেন, তাহলে ভাবি- তিনি আমাকে গুরুত্ব দিলেন না। এটাও একটা ভুল ধারণা।

আপনি আপনার করণীয় করেছেন, সবাই সবার মতো। তাই অন্যকে নিজের মতো ভাবাটা নিতান্তই ভুল। পৃথিবীতে মূল্যবান তারাই, যারা কাউকে কোনোকিছু দিলে তা আবার রিটার্ন পাওয়ার আশা করেন না। তাই আজ থেকে নিজেকে উপযুক্ত করে তুলুন। আর আপনি যদি শুরু থেকে এমনটি হন যে, রিটার্ন পাওয়ার আশায় নই বরং এমনিতেই আপনি উপকার করেন, তাহলে আপনি কতটা মূল্যবান বুঝতে পারছেন?

এমনসব পজিটিভ চিন্তা-ভাবনা আপনাকে তৈরি করে দেবে পৃথিবীর মূল্যবান ব্যক্তিদের একজন। এটা করে নিজের জীবনকে যেমন সুন্দর করা সম্ভব, তেমনি নিজেকে নিজের কাছে সফল হিসেবে পরিচয় করানোও সম্ভব। এতে বাড়বে আত্মবিশ্বাস, সুগম হবে পথচলা।

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

April 2018
S M T W T F S
    May »
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
%d bloggers like this: