চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮

চট্টগ্রামে তীব্র তাপদাহ, অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশ: ২০১৮-০৪-২৫ ১১:৫২:৪৫ || আপডেট: ২০১৮-০৪-২৫ ১১:৫৪:৩৬

চট্টগ্রামে ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকাতে তাপমাত্রা বেড়ে চলায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও সর্বনিম্ন ২৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ধরণের তাপদাহ দুই-তিনদিন থাকলে কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর।

তারা বলছে, এ সময় আকাশে হঠাৎ মেঘ, আবার তীব্র গরম অনুভূত হয়। বৃষ্টি না হওয়ায় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। মাঝারি তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি এই অতিরিক্ত গরমের অন্যতম কারণ।

এদিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। দেশজুড়ে তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিচ্ছিন্ন ভাবে বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম কিছুতে কমছে না। ফলে নাজুক হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। দিনে যেমন রোদের প্রতাপ, রাতে তেমন গরম হাওয়া। গেলো কয়েক দিন ধরে অফিসগামী মানুষ, শ্রমিক, স্কুলগামী শিক্ষার্থী এবং অল্প বয়সের শিশুরা গরম ও তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শহরের রিকশাচালক, বিভিন্ন নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক, সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অসহায় আর দুর্ভোগ অনেকটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এদিকে অনেকে শরীর জুড়াতে আখের রস, শরবত, তরমুজ, ডাবের পানি পান করছেন। গরমের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ডাব বিক্রেতারা ডাবের দাম বাড়িয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। প্রতি জোড়া ডাব বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। দেদার বিক্রি হচ্ছে নগরীর অলিগলি, রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকানে ফানটা, কোকাকোলা, আইসক্রিমসহ নানা কোমল পানীয়। সারাদিনের অসহ্য গরমের পর রাতে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে প্রায় অনেক নগরবাসীকে। সারাদিনের রোদের তেজ বাসাবাড়িতে পড়ায় রাতে ঘরের গরম মানুষের রাতের বিশ্রামকে কেড়ে নিচ্ছে।

নগরীর আগ্রাবাদস্থ মহুরীপাড়ায় বসবাসরত গৃহিণী মুনি্ন রহমান জানান, সারাদিনের গরমে বাসায় টেকা যায় না। রাতে ঘুমানোও দায় হয়ে পড়েছে। এর উপর গরমে রান্নাসহ ঘরের কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ফ্রিজের ঠান্ডা পানি খাওয়ায় গলা ব্যথায় কাহিল অবস্থা বলে জানান তিনি।

এই গরমে বৃদ্ধদের হিটস্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব কুমার পালিত জানান, আকস্মিক আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের এ সময় চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ জন্য সচেতন থাকার পাশাপাশি সব বয়সী মানুষেরই পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। তবে কারো হিটস্ট্রোক হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, আরো দুই-তিনদিন তীব্র তাপদাহ বিরাজ করবে। বৃষ্টি হলে ভ্যাপসা গরম ও তাপদাহজনিত দুর্ভোগ কিছুটা কমে আসবে। তবে উত্তরবঙ্গে যদি তাপদাহ দুই-তিনদিন থাকে তাহলে কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। সাধারণত বৈশাখ মাসে এ ধরণের অবস্থা বিরাজ করে। তবে কোন ধরণের লঘুচাপ বিরাজ করছে না।

সিটিজি টাইমস২৪.কম/একে

Leave a Reply

ক্যালেন্ডার এবং আর্কাইভ

April 2018
S M T W T F S
    May »
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  
%d bloggers like this: